কন্যাসুন্দরী শাড়ীর তখন কাউন্ট ডাউন চলছে, ১০০ শাড়ীর।
হলুদ রং এর একটা শাড়ী খুব পছন্দ হলো। কিন্তু নিজের জন্য কোন কিছু কিনবো নিজের টাকায় এই চিন্তার জন্য কেনা হলো না।
এরপর এক মাস গেলো। ভাবলাম শাড়ীর কাউন্ট ডাউন বুঝি ৩০০ তে গিয়ে ঠেকেছে।
আমি ২০০৯ সাল থেকে নিজের হালকা পাতলা খরচ নিজের টাকাতেই বহন করে আসছিলাম। আর জন্মদিনে নিজেকে নিজেই একটা করে বই বা ডায়রী গিফ্ট করতাম। সামনেই ছিল জন্মদিন। আর জন্মদিনের এক সপ্তাহ পরেই থাকে পহেলা বৈশাখ। তাই শাড়ী নেবার চিন্তাটা মাথায় চলে আসে।
আর মাথায় আসা মানেই পুরো অস্থিরতা চলে আসা। সোজা মনিকা আপুকে নক দিলাম। আর বললাম, আমি শাড়ীর কাউন্ট ডাউন এ থাকতে চাই। আপু সানন্দে রাজি হলেন আর বললেন, আমি তার ১৮৩ তম কাস্টোমার।
আপু শাড়ী পছন্দ করতে বললে চারটা শাড়ী নিয়ে খুব দ্বিধায় ভুগলাম, পরে এই মেরুন রং এর নেচারাল ডাই করা শাড়ীটা খুব পছন্দ হলো। আপু বললেন, আমার দেয়া সময় অনুযায়ী উনি পাঠিয়ে দেবেন।
এরপর তো করোনা শুরু হলো। জন্মদিন, পহেলা বৈশাখ সব তুঙ্গে
আমার আর শাড়ী নেয়া হয়না।
শেষে বললাম, ঢাকায় আমার বরের কাছে যেন পাঠিয়ে দেয়।
বর আবার পার্সেল করে দিলো, আর তা হাতে আসলো গতকাল।
মনিকা আপুকে বললে নিশ্চয়ই আপু জিজ্ঞেস করতো শাড়ীটা কেমন, পছন্দ হয়েছে কি না।
সত্যি বলছি আপু, শাড়ীটা না এখন আর খুলতে ইচ্ছা হলো না। মনে হলো, থাক না। আর দুদিন পরেই তো ঈদ। ঈদেই না হয় খুলবো! আমি জানি শাড়ীটা ভিষণ সুন্দর। এই শাড়ী কেমন হবে তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।
আমার অনেক ভালোবাসার এই শাড়ী। কারণ আপনি আমার অনেক পছন্দের একজন মানুষ। এই ভালোবাসাটা আমি খুব ভালোবেসেই গায়ে জড়াতে চাই। খুব আনন্দ নিয়ে পড়তে চাই। এতটুকু সময় থাক না একটু প্যাকেট বন্দি
আমার লাল ভালোবাসা এখন আমার হাতে, মানে আপনার হাতের ছোঁয়া এখন আমার কাছেও আছে